বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ায় গিয়ে অমিত শাহ বলেছিলেন, রাজ্যে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। শুক্রবার বললেন, কেবলমাত্র মমতা-বিরোধিতা করে ক্ষমতা দখল লক্ষ্য নয় বিজেপির। এদিন সল্টলেকের ইজেডসিসি-তে দলীয় সংগঠনিক বৈঠকে দক্ষিণবঙ্গের নেতা-নেত্রীদের এই বার্তাই দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি আরও বলেছেন, একুশের নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি জিতলে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন সেটা নিয়ে ভাবার দরকার নেই। বরং বাংলা দখলের লড়াইয়ে সকলে একত্রে সামিল হোন। শুক্রবার সল্টলেকের ইজেডসিসি-তে কলকাতা, নদিয়া, দুই চব্বিশপরগনা জেলার নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন অমিত শাহ।
সূত্রের খবর, সেখানেই তিনি বলেন, ‘শুধু মমতা সরকারের বিরোধিতা করা নয়। মানুষের আস্থা অর্জনও করতে হবে। সেটা অর্জন করার উপরই নির্ভর করবে সাফল্য’। দলীয় সংগঠনকে চাঙা করতেও তিনি ভোকাল টনিক দিয়েছেন দলীয় নেতৃত্বকে। তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপির বিচারধারাকে বিস্তার করতে হবে পশ্চিমবঙ্গে। বাংলার বিকাশ ও সুরক্ষার স্বার্থে বিজেপিকে দরকার। এটা বোঝাতে হবে মানুষকে’। এর আগে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে দাঁড়িয়েই তৃণমূলের নাম না নিয়ে অমিত শাহ অভিযোগ করেন, ‘এই রাজ্যে তোষণের রাজনীতি চলছে। আর এর ফলে রাজ্যের ঐতিহ্য নষ্ট হচ্ছে’। এর পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি শাসকদল। দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় অমিত শাহর বক্তব্যের জবাবে বলেন, ‘তোষণের কথা বলে যে সাম্প্রদায়িক কথা তিনি উচ্চারণ করেছেন, সেটা রামকৃষ্ণের সাধনভূমির পবিত্রতা নষ্ট করে দিয়েছে। ঠাকুর রামকৃষ্ণ ‘যত মত তত পথ’-এর কথা বলেছিলেন’।
পাশাপাশি টুইটারে অমিত শাহর বিরোধিতা করে শাসকদল তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলেও কটাক্ষ করে এদিন। পাশাপাশি অমিত শাহর দুদিনের রাজ্য সফরকে কটাক্ষ করেছেন সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ খরচ করে তিনি দলীয় সঙ্কট মেটাতে রাজ্যে এসেছেন। সেটা তো ভার্চুয়াল মিটিংয়েও করতে পারতেন’। তবে শাসকদলের কোনও কটাক্ষই এদিন অমিত শাহর কর্মসূচিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ইজেডসিসিতে প্রথম দফার বৈঠক করে তিনি মধ্যাহ্নভোজ সারতে বাগুইহাটির গৌরাঙ্গনগরে চলে যান। সেখানে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে নবীন বিশ্বাসের বাড়িতেই দুপুরের খাওয়া সারেন। মাটির থালা-বাটি-গ্লাসে তাঁকে নিখাঁদ বাঙালি খাবার পরিবেশন করেন বিশ্বাস পরিবারের মহিলারা। মেনুতে ছিল, ভাত. রুটি, ছোলার ডাল, মুগের ডাল, পনির, বেগুন ভাজা, শুক্তো, চাটনি ও নলেন গুড়ের পায়েস। মাটির থালায় কলাপাতার ওপরে খেতে দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
পরে বিশ্বাস পরিবার জানিয়েছেন, পরিতৃপ্তির সঙ্গেই দুপুরের আহার সেরেছেন অমিত শাহ। এমনকি নবীনবাবুর মেয়েকে টাকা দিয়ে আশির্বাদও করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন মতুয়াদের মন্দিরেও যান অমিত শাহ। সেখানেও পুষ্পবৃষ্টিতে স্বাগত জানানো হয় তাঁকে। নবীন বিশ্বাস নিখিল ভারতীয় বাঙালি সমন্বয় সমিতির সম্পাদক (বাংলা ব্লক)। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে এই সংগঠনের তরফে একটি দাবিপত্র তুলে দিয়েছেন নবীনবাবু। সেখানে বলা হয়েছে রাজ্যে যত শীঘ্র সম্ভব CAA কার্যকর করতে হবে।




Post a Comment
Thank You for your important feedback