আইএসএল এবং ঘটি-বাঙালের লড়াই

আগামী ২০ নভেম্বর চলতি আইএসএলে বল গড়ালেও ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহ উদ্দীপনা কিন্তু ঠিক এক সপ্তাহ পরের ম্যাচ ঘিরেই। কারণ ২৭ নভেম্বর আইএসএলের ইতিহাসে প্রথম ডার্বি ম্যাচ। অনেকটাই আলাদা আঙ্গিকে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। তবুও এটা বাঙালির চিরকালের ডার্বি। মোহনবাগান এখন এটিকে-মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের নামের আগে জুড়েছে ‘এসসি’ শব্দ। তবুও কি আবেগ হার মানে ? 


এবারের ম্যাচ অনেকটাই আলাদা, দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর দুই শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবেই লেগেছে পেশাদারিত্বের ছোয়া। এটিকে-মোহনবাগানের কোচ ভারতীয় ফুটবলের বহু পরিচিত মুখ অ্যান্তোনিয় লোপেজ হাবাস। আর ইস্টবেঙ্গলের কোচ হয়ে এসেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার রবি ফাওলার। দুজনের ফুটবল দর্শন ও প্রজ্ঞার লড়াই দেখা যাবে এই ম্যাচে। 


 


এটিকের কোচ থাকায় হাবাদের রণনীতি আমরা অনেকটাই জানি। এই স্প্যানিশ কোচ নিজের রক্ষণ জমাট রেখেই আক্রমণে যেতে ভালোবাসেন। গোল কম হলেও ম্যাচ না হারাই তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য থাকে। এই কারণেই এ বার তিরি, সন্দেশ জিঙ্ঘন, শুভাশিস বসুকে দলে নিয়েছেন তিনি। আরেক বঙ্গসন্তান প্রবীর দাসকে রক্ষণের পাশাপাশি উইং দিয়ে আক্রমণেও উঠতে বলেছেন হাবাস। যদিও রণনীতি যাতে ফাঁস না হয় তাই এবার কোনও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছেন না তিনি। তবুও তাঁর ফুটবল শৈলী চেনা। বিগত বছরে তিনি এটিকে-কে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন রক্ষণেই জোর দিয়ে। 

 


কিন্তু রবি ফাওলার ফুটবলার হিসেবেও ছিলেন যেমন আক্রমণাত্মক, কোচিংয়েও তাই। ইস্টবেঙ্গলের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচেও সেটা বোঝা গিয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচে  আইএসএলে এটিকে-মোহনবাগানের প্রথম প্রতিপক্ষ কেরল ব্লাস্টার্সকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছেন ফাওলারের ছেলেরা। ইপিএলে নরউইচ সিটির মিডিয়া পিলকিংটন জোড়া গোল করেছেন ওই ম্যাচে। 


সূত্রের খবর, অনুশীলনেও আক্রমণাত্মক ফুটবলের ওপরই জোর দিচ্ছেন ফাওলার। নির্দিষ্ট ছক না রেখে মাঝমাঠ ও আক্রমণে লোক বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য। ইস্টবেঙ্গলের সহকারি কোচ ম্যাঞ্চেস্টার সিটির প্রাক্তন মিডফিল্ডার অ্যান্টনি গ্রান্ট। তিনিও জানিয়েছেন, শুরু থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপানো হচ্ছে আমাদের মন্ত্র। রবি সব সময়ই চায়, বল যেন ওর ফুটবলারদের দখলেই থাকে। 

 

 


বাঙালির চিরকালীন আবেগের ডার্বি এবার আইএসএলে। তাই আধুনিকতার পাশাপাশি নতুনত্বও থাকবে সেটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু আগামী ২৭ নভেম্বর বাঙালি আগের মতোই দু’ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। এটা ঘটি-বাঙালের লড়াই। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের লড়াই। সোমবার থেকেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দিচ্ছে দুই দল। গোয়ায় যাবতীয় কোভিডবিধি মেনে সুরক্ষাবলয়ের মধ্যেই চলছে গোপন অনুশীলণ। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের আইএসএল তাঁর প্রকৃত জৌলুস ফিরে পাবে। কারণ, আইএসএলের আঙ্গিনায় এবার পা রেখেছে ইস্ট-মোহন।



Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post