অমিত ফেরার পরই বিরসা মুন্ডার মূর্তি শুদ্ধিকরণ তৃণমূলের, কটাক্ষ বিজেপির

বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া সফরের শুরুতেই পুয়াবাগানে বিরসা মুন্ডার মূর্তিতে মাল্যদান করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরদিন অর্থাৎ শুক্রবারই সেখানে শুদ্ধিকরণ করল তৃণমূল কংগ্রেস। বাঁকুড়া-পুরুলিয়া রাজ্য সড়কের ওপর পুয়াবাগান এলাকায় বিরসা মুন্ডার একটি মূর্তি রয়েছে। দুদিনের রাজ্য সফরে এসে সেই মূর্তির তলায় রাখা বিরসার প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ্য নিবেদন করেন অমিত শাহ সহ বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। 

 

শুক্রবার সকালে তৃণমূলের তরফে ওই মূর্তিটিকে জল দিয়ে ধুয়ে মুছে সাফ করা হল। এই ঘটনার পরই তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে জেলা জুড়ে। বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শ্যামল সাঁতরা এদিন শুদ্ধিকরণ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আদিবাসীদের উন্নয়নে কোনও টাকা বরাদ্দ করছে না। সমস্ত অনুদান বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ এখানে এসে মূর্তিতে মালা দিচ্ছেন’। জেলা পরিষদের বর্তমান সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু বলেন, ‘বর্তমানে ভোটের আগে রাজনীতি করতে দিল্লি থেকে নেতা আমদানি করছে বিজেপি। আদিবাসীদের ঘরে কলাপাতায় ১৬০০ টাকা কেজির পোস্ত বড়া ও আলু পোস্ত দিয়ে ভাত খেয়ে গেলেন দিল্লির নেতা’। তাই বিরসা মুন্ডার মূর্তিতে এদিন গঙ্গাজল ও দুধ দিয়ে শুদ্ধিকরণ করা হল বলেই শাসকদলের নেতাদের দাবি।

 


 বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিরসা মুন্ডা কোনও রাজনৈতিক দল অর্থাৎ কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপি বা তৃণমূলের নেতা ছিলেন না। তিনি একটি সমাজের পূজনীয়, তাই তাঁকে যে কেউ শ্রদ্ধা ও সন্মান জানাতে পারেন। আর অমিত শাহর যেকোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই ভয় পাচ্ছে তৃণমূল। তাই ভয়ের থেকেই এই ধরনের কাজ করছে শাসকদল’। 

 

অপরদিকে, বাঁকুরার আদিবাসী সমাজের একাংশের দাবি, এটি আদতে বিরসা মুন্ডার মূর্তিই নয়। এটি আসলে এক আদিবাসী শিকারির প্রতিকৃতি। যা এখানকার আদিবাসী সমাজের প্রতীক হিসাবেই বসানো হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, এই ধরনের কথা কারা রটাচ্ছেন সেটা আমার জানা নেই। ওখানকার মানুষরাই বলে থাকেন ওটা বিরসা মুন্ডারই মূর্তি। ফলে এই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

 

Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post