স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ এবং ব্লক সভাপতি মির হুমায়ুন কবীরের অনুগামীদের মধ্যে বচসাকে কেন্দ্র করেই গোলমালের সূত্রপাত। অল্প সময়ের মধ্যেই বচসা সংঘর্ষের রূপ নেয়। দু’পক্ষের সমর্থকরাই লাঠি, রড, বাঁশ নিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করে। এমনকি অভিযোগ বোমা-বন্দুক নিয়েও দেখা গিয়েছে অনেককে। এরমধ্যেই শালমারা বাজারের একাংশে আগুন লাগিয়ে কেউ বা কারা। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে দোকানপাট। সেসময় বাজারে থাকা বেশ কয়েকটি মোটরবাইকেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার খবর পেয়েই সেখানে পৌঁছে যায় সাহেবগঞ্জ থানা থেকে পুলিশ বাহিনী।
অভিযোগ, পুলিশের সামনেই চলে সংঘর্ষ। পরে জেলা সদর থেকে আরও বাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। সূত্রের খবর, কোচবিহারে তৃণমূলের জেলা কমিটি এবং ব্লক কমিটি গঠনের পরই ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল তৃণমূলের একাংশের মধ্যে। প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূল নেতা মীর হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগের তীর ছিল স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহর দিকে। হুমায়ুন কবীরের দাবি ছিল, ‘যাঁরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে কাজ করল তাঁরাই এখন দলে গুরুত্ব পাচ্ছে’। প্রায় একই দাবি করেছেন আরেক ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা তথা কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামীর। এরমধ্যেই বৃহস্পতিবার বিজয়া সম্মেলনীর আয়োজন করেন মীর হুমায়ুন কবীর। সেখানে উদয়ন গুহ সহ তাঁর অনুগামীদের আমন্ত্রন করা হয়নি। ফলে ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে।
এদিনের গোলমালের সূত্রপাত এই বিজয়া সম্মেলনী থেকেই। যদিও পুরো ঘটনা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়। পাশাপাশি উদয়ন গুহ বা মীর হুমায়ুন কবীর কেউই নিজেদের বক্তব্য জানাতে অস্বীকার করেন। তবে সংঘর্ষের পর থেকে থমথমে দিনহাটা। বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকায় এলাকায় টহল দিচ্ছে। যদিও সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ এখনও গ্রেফতার হননি।



Post a Comment
Thank You for your important feedback