বাংলার হিরো বলতে একজনই, উত্তমকুমার। তিনি দশক পেরিয়েও গুরু। তাঁরই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ে গিয়েছিলেন তিনি। বাঙালি কাছে ইন্টেলেকচুয়াল নায়ক সৌমিত্র। ঝিন্দের বন্দিতে উত্তমের শঙ্কর সিংয়ের সঙ্গে টক্কর সৌমিত্রের ময়ূরবাহন, স্ত্রী ছবিতে উত্তমের মাধব দত্তের সঙ্গে সৌমিত্রের সীতাপতি। একসময় চায়ের টেবিলে রীতিমতো আড্ডার খোরাক ছিল।
যতই তাঁদের নিয়ে চর্চা হোক, দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল ততই গাঢ়। সিনেমায় আসার আগেই দুজনের পরিচয়। উত্তম কুমার ছিলেন সৌমিত্রের শ্যালকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে উত্তমও এসেছিলেন সৌমিত্রর বাড়িতে। সেই থেকে দুজনের বন্ধুত্ব কখনও টোল খায়নি। বাঙালির তর্কের বিষয় ছিল উত্তম কুমার হলেন ‘পপ আইকন’ আর তিনি ‘সেরিব্রাল’ অভিনেতা। যদিও এমন তুলনায় রীতিমতো অসন্তুষ্ট হতেন সৌমিত্র। বলতেন, ভালো অভিনেতার জাত হয় না। সেরিব্রাল অভিনেতারও পা থাকে মাটিতেই।
‘যদি জানতেম’ ছবিতে আইনজীবী উত্তমের মুখোমুখি অপরাধী সৌমিত্র, ‘দেবদাস’ সিনেমায় সৌমিত্র নাম চরিত্রে আর চুনিলাল হয়েছিলেন উত্তম কুমার। একইভাবে পঙ্খিরাজ, দর্পচূর্ণ, অপরিচিত, প্রতিশোধ একসঙ্গে যে কটি ফিল্মে অভিনয় করেছেন দুজনে তর্কের শেষ হয়নি কখনও। একদল বাঙালি গুরুর সঙ্গে, অন্যদল সৌমিত্রের পিছনে।
অসময়ে চলে গিয়েছেন মহানায়ক। ষাটবছরেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করেছেন সৌমিত্র। অসুস্থ হওয়ার আগেও শুটিং চালিয়ে গিয়েছেন পুরোদমে। তবে অভিনেতা পরিচয়ের বাইরে সৌমিত্র ছিলেন একজন কবি, প্রাবন্ধিক, আবৃত্তিকার। এবং নির্মাল্য আচার্যের সঙ্গে করেছেন এক্ষণ পত্রিকার সম্পাদনা। ভালো ছবিও আঁকতেন তিনি।
Post a Comment
Thank You for your important feedback