গরুপাচারের কিংপিন বলে তাঁর নাম উঠে এসেছিল আগেই। সেই এনামুল হককে ধরতে আকাশ-পাতাল এক করছিল সিবিআই গোয়েন্দারা। অবশেষে কলকাতার কয়েক জায়গায় তল্লাশির পরই হদিশ মেলে এনামুলের। দিল্লি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই। কিন্তু ধৃত এনামুলকে আদালতে হাজির করানোর পরই অন্তর্বর্তী জামিন পেয়ে গেলেন তিনি। দিল্লির জেলা আদালত এনামুল হককে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে প্রশ্নের মুখেও পড়তে হল। আদালতের প্রশ্ন, তদন্তে সহযোগীতা করা সত্বেও কেন হঠাৎ দিল্লিতে এসে এনামুলকে গ্রেপ্তারির প্রয়োজন পড়ল? এরপরই ধৃতকে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে আদালত নির্দেশ দেয়, সোমবার দুপুরে কলকাতায় এনামুলকে মামলার মূল তদন্তকারী অফিসারের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এবং এর আটঘন্টার মধ্যে তাঁকে মামলার নির্দিষ্ট আদালতে হাজির করাতে হবে।
এই সময়ের মধ্যে অবশ্য এনামুল দেশ ছাড়তে পারবেন না বলেও নির্দেশ দিল্লির জেলা আদালতের। পাশাপাশি কোনও অভিযুক্ত এবং সাক্ষীর সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারবেন না এনামুল। উল্লেখ্য, গরুপাচার তদন্তের মূল মামলা সিবিআই আসানসোলের এক বিশেষ আদালতে করেছে। দিল্লি থেকে এনামুলকে গ্রেফতার করে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় এনে আসানসোলের আদালতেই হাজির করার পরিকল্পনা করে সিবিআই। সেই মোতাবেক দিল্লির আদালতে পাঁচদিনের ট্রানজিট রিমান্ডও চায়। এর বিরোধিতা করেন এনামুলের আইনজীবীরা। তাঁদের বক্তব্য, কোরলের কোচিতে দায়ের করা একই মামলায় জামিনে রয়েছেন এনামুল। আগে এই মামলায় দুমাস জেলেও ছিলেন তিনি।
এই নতুন মামলায় একবার হাজিরাও দিয়েছিলেন সিবিআইয়ের দফতরে। তিনি মামলায় সহযোগীতাও করছেন, তাহলে গ্রেফতারি কেন? সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করলেও, তদন্তকারী অফিসার কিন্তু জামিনের বিরোধিতা করেননি। সিবিআইয়ের বক্তব্য, এনামুল বিদেশ পালাতে পারেন, তাই এই গ্রেফতারি। পাশাপাশি সিবিআই জানান, অভিযুক্ত এনামুল প্রভাবশালী, তাই তদন্তে প্রভাব খাঁটাতে পারেন। এরপরই পরিস্থিতি বিচার করে আদালত গরুপাচারে অভিযুক্ত এনামুল হককে অন্তর্বর্তী জামিন দেয়।

Post a Comment
Thank You for your important feedback