হাসপাতালে ভুলে অন্য করোনা রোগীর দেহ সৎকারের পরে শ্রাদ্ধশান্তির ঠিক আগের দিন সুস্থ হয়ে ফিরে এলেন ৭৫ বছরের শিবনাথ ব্যানার্জি। স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়েরা। খড়দার একটি সেফ হোমে ছিলেন তিনি। সেফ হোম থেকে তাঁকে পাঠানো হয় বারাসতের একটি হাসপাতালে। সেই হাসপাতল কর্তৃপক্ষ চলতি মাসের ১৩ নভেম্বর দেহ তুলে দেন ব্যানার্জি পরিবারের হাতে?
তাহলে সেই দেহটি কোন করোনা আক্রান্ত রোগীর, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। স্থানীয় সূত্রের খবর, উত্তর দমদম পুরসভার কুড়ি নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ব শিবাচলে জেশপ কারখানার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী শিবনাথ ব্যানার্জি করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১১ নভেম্বর ভর্তি হন এবং হাসপাতাল থেকে ১৩ নভেম্বর তাঁর মৃত্যুর খবর আসে এবং মৃতদেহ আসে হিন্দুশাস্ত্র মতে ছেলে মৃতদেহ সৎকার করেন এবং বাবার পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মের জন্য বাড়িতেই প্যান্ডেল করা হয়।
শুক্রবার ফের খবর আসে, শিবনাথবাবু সুস্থ। তাঁকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যেতে বলা হয়। একদিকে যেমন পরিবারের লোকজন সেই ঘটনা কোনওমতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, পাশাপাশি এই খবরে কিছুটা হলেও ওই পরিবারের কাছে স্বস্তিরও। শুক্রবার রাতেই ওই বৃদ্ধ সুস্থ হয়ে করোনা জয় করে বাড়ি ফিরে এসেছেন।
অন্যদিকে, শনিবার মোহিনীমোহন মুখার্জির বাড়ির লোকজনকে ডাকা হয়, তাঁদের রোগী বাড়ি নিয়ে যাবার জন্য। তাঁরা গিয়ে দেখেন তাঁদের কেউ নন, যে রোগী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোহিনীমোহন মুখার্জির নামে তাদের দেওয়া হচ্ছে, তাঁর নাম শিবনাথ ব্যানার্জি বিরাটির বাসিন্দা। হতচকিত হয়ে স্থানীয় খড়দা পুরসভার চেয়ারপার্সন কাজল সিনহার দ্বারস্থ হয় মৃতের পরিবার। এরপরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় একজনের নাম এবং আরেক জনের ফাইলে ঢুকে যাওয়ায় এই বিপত্তি হয়েছে।

إرسال تعليق
Thank You for your important feedback