করোনা আবহে এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল বর্ধমান। ২০০০ টাকার অভাবে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে অসুস্থ মহিলাকে স্থানান্তরিত করতে পারছিলেন না পরিবার। পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর-১ পঞ্চায়েত এলাকা থেকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে যেতে অ্যাম্বুলেন্স চালক ২০০০ টাকা ভাড়া চান। অভিযোগ, ওই অ্যাম্বুলেন্সটি সাংসদ কোটার টাকায় কেনা এবং পরিচালনা করে জামালপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত। শেষ পর্যন্ত ওই অসুস্থ মহিলার কান থেকে সোনার দুল খুলে ওই অ্যাম্বুলেন্স চালকের কাছে বন্ধক রেখেই হাসপাতালে যেতে পারলেন ওই অসুস্থ মহিলা।
এই ঘটনা জানাজানি হতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে রাজ্যজুড়ে। ওই পরিবারের দাবি, দিন দশেক ধরে জ্বরে ভুগছিলেন জামালপুরের উত্তরশুড়া গ্রামের ৩৪ বছর বয়সী বুল্টি মালিক। মঙ্গলবার রাতে অসুস্থতা বাড়লে পরিবারের লোকজন তাঁকে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। মহিলার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না থাকায় তাঁকে বর্ধমান মেডিকেলে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপরই তাঁরা যোগাযোগ করেন ওই অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে। টাকা না পেলে যেতে রাজি হননি ওই চালক। এরপরই অসুস্থ রোগিনীর সোনার কানের দুল খুলে অ্যাম্বুলেন্স চালককে দিলে তার বিনিময়ে তিনি ২০০০ টাকা দেন। এই টাকা থেকে ১১০০ টাকা ভাড়া বাবদ দিয়ে বাকিটা চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করে বুল্টির পরিবার।
ওই অ্যাম্বুলেন্স চালক প্রথমে নিজের কাছে বন্ধক নেওয়ার কথা স্বীকার না করলেও পরে চাপের মুখে কানের সোনার দুল রেখে ২০০০ টাকা দেবার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর দাবি, ওই পরিবারের কাছে টাকা না থাকার কথা আামাকে বলে এবং তাঁদের ইচ্ছাতেই টাকার ব্যবস্থা করে দিই। যদিও খবর জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসেন জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। তিনি ওই চালককে সোনার কানের দুল ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বুল্টির পরিবারকে। এবং ওই চালককে শোকজ করা হয়েছে। অপরদিকে, জামালপুরের বিওএমএইচ জানিয়েছেন সাধারণ রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য সরকারি কোনও অ্যাম্বুলেন্স নেই।



إرسال تعليق
Thank You for your important feedback