করোনার থাবায় পরপর পাঁচদিনে পাঁচ চিকিৎসকের মৃত্যু রাজ্যে

দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ভাইফোঁটা শেষ, এবার ছট এবং জগধাত্রী পুজোর পালা। ফলে রাজ্যে উৎসবের মরশুম এখনও শেষ হয়নি। কিন্তু এরমধ্যেও রাজ্যে করোনার বাড়বাড়ন্ত একবিন্দু কমেনি। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যায় যেমন লাগাম পড়েনি, তেমনই করোনায় মৃত্যুও অব্যহত। এই আবহেই এল বড় দুঃসংবাদ, গত পাঁচদিনে রাজ্যে পাঁচ চিকিৎসক করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। 

 

রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া করোনা বুলেটিন অনুযায়ী ১৭ ও ১৮ নভেম্বর নতুন করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি। ১৭ তারিখ করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের এবং ১৮ তারিখ ৫৪ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৭,৮২০ জন। এরমধ্যেই গত পাঁচদিনে পাঁচজন চিকিৎসকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। 

 


স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর, বুধবার পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৭২ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে। বুধবারই লেক গার্ডেন্সের বাসিন্দা পেশায় চিকিৎসক অনিকেত নিয়োগীর মৃত্যু হয়। তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। তবে একসপ্তাহ আগেই করোনা নেগেটিভ হয়েছিলেন ৩৫ বছরের এই তরুণ চিকিৎসক। বুধবার আচমকাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

 

 আরজি কর মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুব্রত মিত্রও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। তিনিও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। তবে করোনা মুক্তির পর বাড়ি ফেরার পরই হৃদযন্ত বিকল হয়ে মৃত্যু হল এই চিকিৎসকের। মঙ্গলবারই আরামবাগের চিকিৎসক মদন রায় (৭২) মারা গিয়েছেন। তিনিও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। 

 

এর আগে চুঁচুড়ার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ দ্বিজদাস সোম এবং কলকাতার আরেক চিকিৎসক মেঘনীল বসুর মৃত্যু হয় করোনা সংক্রমিত হয়ে। চিকিৎসক সংগঠনগুলির দাবি, করোনা মুক্তির পরেই অনেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এটাও একটা চিন্তার বিষয়।
 

Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post