আমেরিকার প্রথম ‘কৃষ্ণাঙ্গ ও মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্ট’ কমলা হ্যারিস


প্রথম মহিলা হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন তিনি। একই সঙ্গে এই প্রথম কোনও কৃষ্ণাঙ্গ তথা এশিয়ান তথা ভারতীয় আমেরিকান এই দায়িত্বভার পাবেন কমলা হ্যারিস। একই সঙ্গে গড়লেন বহু রেকর্ড, সেই সঙ্গে ভাঙলেন বহু অদৃশ্য দেওয়ালও। ফলে আমেরিকার ইতিহাসে কমলা হ্যারিসের নাম উজ্বল অক্ষরে লেখা থাকবে এটা বলাই বাহুল্য। কালো মানুষদের অধিকারের দাবিতে এক সময় আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছিল আমেরিকা। সেই আন্দোলনকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন কমলা। আজ তিনিই আমেরিকার প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্ট। যাঁর ধমণীতে বইছে তিনটি মহাদেশের রক্ত। আফ্রিকা, এশিয়া ও আমেরিকা। ফলে একদিক থেকে এটাও একটা বিপ্লব।


স্বামী সন্তানের সঙ্গে কমলা হ্যারিস

কমলার মা প্রয়াত শ্যামলা গোপালান ছিলেন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। পড়াশোনার সূত্রেই তাঁর আমেরিকায় যাওয়া। সেখানে গিয়ে এক কৃষ্ণাঙ্গের প্রেমে পড়েন ও তাঁকে বিয়েও করেন শ্যামলা গোপালান। সেই বিয়ে বেশিদিন না টিকলেও আমেরিকাতেই থেকে যান তিনি। তবে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ আমৃত্যু বজায় রেখেছিলেন কমলার মা শ্যামলা। ছুটি পেলেই ছুটে আসতেন চেন্নাইতে, নিয়ে আসতেন তাঁর দুই মেয়েকে। ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েই তাই কমলা মায়ের স্মৃতিতে ডুব দিলেন। বললেন, ‘মাত্র পাঁচ ফুট উচ্চতার আমার মা যখন আমায় ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে কাইসার হাসপাতালে জন্ম দিয়েছিলেন, তখন তিনি ভাবতেই পারেননি যে একদিন আমি এই জায়গায় পৌঁছবো’।


বাবা ও মায়ের সঙ্গে শিশু কমলা

১৯৬৪ সালে জন্ম কমলার, এরপর তাঁর বোন মায়া লক্ষ্মীর। ২০০৯ সালেই মা শ্যমলার মৃত্যু হয়। তবে কমলার বয়স যখন মাত্র সাত, তখনই বাবা-মায়ের বিয়ে ভেঙে যায়। কিন্তু ছোটবেলা থেকে অ্যাফ্রো-আমেরিকান সংস্কৃতিতেই বেড়ে উঠেছেন কমলা। তার সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতির মিশেল। যার প্রমান পাওয়া যায় কমলার আত্মজীবনী ‘দ্য ট্রুথস উই হোল্ড’ বইয়ের পাতায় পাতায়। হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের স্নাতক হন কমলা। ২০০৩ সালে তিনি সান ফ্রান্সিসকোর অ্যাটর্নি জেনারেল হিসাবে নিযুক্ত হন। ২০১০ সালে কমলা ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল হন। কোনও অ্যাফ্রো-আমেরিকান এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসাবে তিনিই প্রথম ওই পদ পান।


চেন্নাইতে পরিবারের সঙ্গে শিশু কমলা

সেই শুরু, এরপর একের পর এক হার্ডল পার করে কমলা আজ বিশ্বের প্রাচীনতম আধুনিক গনতান্ত্রিক দেশের প্রথম মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদটি তাঁরই দখলে। উল্লেখ্য, এক সময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়েও ছিলেন কমলা। সে সময় বিতর্কে বাইডেনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে সরব হন সেনেটেও। কিন্তু ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউস দখলের লড়াইয়ে সেই কমলাকেই সঙ্গী করেন জো বাইডেন। আর এই চালেই বাজিমাত করলেন বাইডেন। আর কমলার হাত ধরে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন আমেরিকায় অবহেলিত অ্যাফ্রো-আমেরিকান এবং এশীয়-আমেরিকান অসংখ্য কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post