মাস্ক ছাড়া ‘নো-এন্ট্রি’ স্টেশনে, ভিড় সামলাতে রেল-রাজ্যের ‘আদর্শ আচরণবিধি’

রাত পোহালেই রাজ্যে শুরু হবে লোকাল ট্রেন পরিষেবা। তার আগে রেল-রাজ্য সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল দুই পক্ষই। পরিষেবা শুরুর দু’দিন আগে লোকাল ট্রেন নিয়ে আদর্শ আচরণবিধি প্রকাশ করল রাজ্য প্রশাসন। সোমবার বিকেলে হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। নবান্নের শীর্ষ কর্তারা ভার্চুয়াল বৈঠক করেন রাজ্যের ১০টি জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকের সঙ্গে। এই দশ জেলায় লোকাল ট্রেন পরিষেবা থাকবে। স্বরাষ্ট্রসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদির নেতৃত্বে ভিডিও কনফারেন্স হয়েছে। এই বৈঠকে মূলত আলোচনা হয়েছে কিভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রিত হবে, কোভিড প্রোটোকলই বা কিভাবে মানা হবে। 


বৈঠকেই ঠিক হয়েছে রাজ্য প্রশাসন রেলকে সবরকম সাহায্য করবে। রাজ্য পুলিশ প্রয়োজনে স্টেশনগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রনে মাঠে নামবে। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলির বাইরে পর্যাপ্ত পুলিশ থাকবে। নবান্ন থেকে ওই সমস্ত ডিএম এবং এসপি দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্টেশনে প্রবেশের আগে প্রত্যেক যাত্রীর যেন মাস্ক থাকে। অর্থাৎ মাস্ক ছাড়া ‘নো-এন্ট্রি’ স্টেশনে। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্রেনের কামরায় এবং স্টেশনে হকারদের প্রবেশ নিষেধ। স্টেশনে স্টেশনে কোনও স্টল খুলবে না এখনই। তবে বাণিজ্যিক প্রয়োজনে ট্রেনের ভেন্ডার কামরা বৈধ টিকিট সহ যাত্রা করতে পারবেন ভেন্ডাররা। 


লোকাল ট্রেন নিয়ে রেল-রাজ্য সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেইমতো রাজ্যস্তরে নোডাল অফিসার নিয়োগ করছে রাজ্য সরকার। রেল পুলিশের ডিজি অধীর শর্মাকে নোডাল অফিসার করা হয়েছে। ঠিক হয়েছে তিনি পূর্ব রেলের পক্ষে চিফ প্যাসেঞ্জার ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজার এবং ডিভিশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারদের সঙ্গে নোডাল অফিসার হিসেবে যোগাযোগ রাখবেন। অপরদিকে জেলাস্তরে নোডাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন জেলাশাসকরা। এছাড়াও ঠিক হয়েছে, ভিড় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রত্যেক স্টেশনেই একটি আইসোলেশন ঘর রাখতে হবে রেলকে। কোনও যাত্রী উপসর্গযুক্ত হলে তাঁকে যাতে প্রাথমিকভাবে সেখানে রাখা যায়। পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

 


পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি স্টেশনে পর্যাপ্ত সংখ্যায় গণ পরিবহণের ব্যবস্থা রাখতে। কাছাকাছি একাধিক স্টেশনের মধ্যেও পরিবহণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে হবে। লক্ষ্য, ট্রেন থেকে নেমে অন্য পরিবহণের অভাবে যাত্রীদের যাতে স্টেশনেই অপেক্ষা করতে না হয়। স্টেশনে ঢোকা-বেরোনোর জন্য নির্দিষ্ট পথ যাত্রীরা মানছেন কি না সেটাও দেখবে রাজ্য পুলিশ। হাওড়া এবং শিয়ালদহ ডিভিশনে অফিসের ব্যস্ত সময়, সকাল ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে মোট ১৭৭ টি ট্রেনের ১৪৮টিই (প্রায় ৮৪ শতাংশ) চলাচল করবে বলে রেল সূত্রে খবর। সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়েও প্রায় একই সংখ্যক ট্রেন চলবে।





Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post