করোনার বর্ষপূর্তি

‘করোনা’ শব্দটার আক্ষরিক অর্থ হল মুকুট। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের তলায় এই পরিবারের ভাইরাসকে অনেকটা রাজার মাথার মুকুটের মতন দেখায়। মাইক্রোস্কোপিক এই ভাইরাসের বিজ্ঞানভিত্তিক নাম সার্স কভ-২ (SARS-CoV-2),  ডাক্তারি নাম নভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯। যা সারা পৃথিবীর মানুষকে আতঙ্কে ঘরবন্দি করে দিয়েছিল  কয়েকমাসের জন্য। যদিও এখনও করোনা ভাইরাস অতিমারী পর্যায়েই রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা ‘WHO’। 


কিন্তু বিশ্বজোড়া এই আতঙ্কের মাঝেই আমরা কখন যে এক বছর কাটিয়ে ফেললাম সেটাই বুঝতে পারলাম না। দিনটা ছিল ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর। চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে এক ব্যক্তি অজানা জ্বরে আক্রান্ত হলেন। সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গে জ্বর ছিল তাঁর। সেইসঙ্গে ছিল তীব্র শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসক, গবেষকরা চিহ্নিত করেছিলেন এই রোগের জন্য দায়ী এক নতুন ভাইরাস— করোনা ভাইরাস। কিন্তু তখনও বোঝা যায়নি এই ভাইরাসই কার্যত লন্ডভন্ড করে দেবে গোটা পৃথিবী। 

ফলে দেখতে দেখতে এক বছর পূর্ণ করল অতিমারী করোনা ভাইরাস। চিনের সীমানাছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশ, এমনকি অন্য মহাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড ১৯। বিশ্ব জুড়ে মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ১, আর এক বছরের মাথায় সেই সংখ্যা গিয়ে ঠেকল ৫ কোটির বেশি। আর প্রাণ কাড়ল ১৩ লাখের বেশি মানুষের। 


এক বছর পেরিয়ে গেলেও কীভাবে এই ভয়ানক মারণ ভাইরাসের হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যায় তার স্পষ্ট রূপরেখা আজও অধরা। আবিষ্কারের দাবি থাকলেও বাজারে আসেনি কোনও টিকা, এমনকী নেই কোনও ওষুধও। অথচ গতবছরের ডিসেম্বর মাসেও যখন চিনের উহান শহরে মাত্র ৬০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তখনই বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা সতর্ক করেছিল এই ভয়ানক ছোঁয়াচে স্বভাবের ভাইরাসকে নিয়ে। হু জানিয়ে দিয়েছিল সতর্ক না হলে গোটা বিশ্বকেই সংক্রমিত করতে পারে নভেল করোনা ভাইরাস। আর সেই আশঙ্কাই আজ সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। প্রথমে উহান শহর থেকে চিনের বিভিন্ন প্রদেশে, তারপর বহির্বিশ্বে। আটকানো যায়নি করোনা সংক্রমণকে। 


ভারতে করোনা ভাইরাসের আমদানি কিন্তু চিন থেকেই। কেরলের এক ছাত্রী চিন থেকে কলকাতা হয়ে কেরলের বাড়ি ফেরেন। তাঁর শরীরেই প্রথম পাওয়া গিয়েছিল করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব। চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি তাঁকে কেরলের এক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। 


বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর আগেই চিনে মহামারীর পর্যায়ে চলে গিয়েছিল করোনা। ফলে ভারত সরকার অনেকটাই দেরি করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে। মার্চ মাসের শেষের দিকে ভারত সরকার দেশজোড়া লকডাউন ঘোষণা করে। ততক্ষণে বিদেশ ফেরত বিমানে করোনার প্রবেশ অবাধ হয়েছে ভারতে। ভারতে বর্তমান সংখ্যাটা নয় নয় করে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ লাখে। মৃত্যুর সংখ্যা দেড়লাখ ছুঁই ছুঁই। 

 

অথচ দেশের অর্থনীতিকে সামাল দিতে গিয়ে প্রায় সম্পূর্ণভাবেই তুলে দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি, শপিং মল, সিনেমা হলও। চালু হয়েছে লোকাল ট্রেন, মেট্রো। নিউ-নর্মালে  আর গৃহবন্দি নয় বরং  কেবলমাত্র মাস্ক আর স্যানিটাইজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ সুরক্ষাবিধি। এখন অপেক্ষা শুধু করোনার টিকার।



Post a Comment

Thank You for your important feedback

أحدث أقدم