অমিত বৈঠকে শোভন-বৈশাখী, মীমাংসারসূত্রপাত?

প্রায় ১৪ মাস হয়ে গেল পদ্ম শিবিরে যোগদান করেছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গেই বিজেপিতে গিয়েছিলেন ‘বিশেষ বান্ধবী’ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তারপর গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। কিন্তু সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি একদা তৃণমূলনেত্রীর খুব কাছে কাননকে। বিজেপির কোনও কর্মসূচিতেই যাননি তিনি, এমনকি বৈশাখীকেও দেখা যায়নি বিজেপির কোনও কর্মসূচিতে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা তাঁর বাড়ি গিয়েছিলেন। কিন্তু বরফ গলেনি। অবশেষে বরফ গলল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। সৌজন্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

 


 বৃহস্পতিবার রাতে আচমকাই কলকাতায় অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন শোভন–বৈশাখী। এটা একেবারেই অমিত শাহর কর্মসূচিতে ছিল না। কিন্তু বৈঠক হল, বরফও গলল। বিজেপি সূত্রে খবর, একুশের লড়াইয়ের আগে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগাতে চাইছেন অমিত শাহ। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা  দীর্ঘ। কলকাতা পুরসভা, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সামলানোর পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের সভাপতিও ছিলেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ কলকাতায় সংগঠনে কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারেন শোভনবাবু। এই চিন্তা থেকেই আসরে নামে বিজেপি। 

 

 এর আগে বৈশাখীকে রাজ্য কমিটিতে এনেও শোভনের মানভঞ্জনের চেষ্টা করেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। এরপর বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদ থেকে সরানো হয়েছে সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে। রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক আদায় কাঁচকলায় ছিল শোভনের। এবার সয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই দেখা করে কথা বললেন শোভন-বৈশাখীর সঙ্গে। বাঁকুড়ার কর্মসূচি সেরে সন্ধ্যায় কলকাতায় ফেরেন অমিত শাহ। রাতে নিউটাউনের একটি হোটেলে শোভন–বৈশাখীর ডাক পড়ে। সেখানেই দীর্ঘ আলোচনা হয় দুই পক্ষের। 

 

সূত্রের খবর,  আলোচনা ভালোই হয়েছে, বৈঠক শেষে যথেষ্ঠই খুশি দুজনে। শোনা যাচ্ছে সব তিক্ততা ভুলে শীঘ্রই সক্রিয় রাজনীতেতে অর্থাৎ বিজেপির সংগঠনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বিজেপির নতুন সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী শোভনকে কাজে লাগাতে তৎপর হয়েছেন। তাঁরই উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় এবং অরবিন্দ মেনন শোভন-বৈশাখীকে নিউটাউনের হোটেলে অমিত শাহর দরবারে হাজির করান। এখন দেখার কবে থেকে বিজেপির হয়ে নতুন ইনিংস শুরু করেন একদা তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post