বৃহস্পতিবার রাতে তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের মুইদিপুর গ্রাম। রাতের দিকে একটি বালিবোঝাই লরি উল্টে যায় একটি মাটির বাড়ির ওপর। আর ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু হল একই পরিবারের তিনজনের। এরপর পরেই গোটা এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। দেহ আটকে সকাল পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। এমনকি বিক্ষোভ থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে পুলিশও। ভাঙচুর হয় পুলিশের গাড়ি, একটি গাড়ি বাঁধ থেকে নীচে ফেলে দেয় উত্তেজিত গ্রামবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দামোদরের বাঁধের রাস্তার ধারে ছিল ওই মাটির বাড়িটি। দামোদরের চর থেকে বালি তুলে ওই রাস্তাতেই চলাচল করে লরিগুলি। বৃহস্পতিবার রাতে একটি বালি বোঝাই লরি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে উল্টে যায় ওই বাড়ির ওপর। চারজন চাপা পড়ে যায় ধ্বংসস্তুপে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দেহ উদ্ধারের চেষ্টার সময় উত্তেজনা ছড়ায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিল। বেহুঁশ অবস্থায় গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার ফলে এই বিপত্তি ঘটেছে। তাঁদের দাবি, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি এলাকায় বালিবোঝাই লরি চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দেহ আটকেই চলে ঘন্টার পর ঘন্টা বিক্ষোভ, অবরোধ। পুলিশ তাঁদের আস্বস্ত করতে গেলেই শুরু হয় অশান্তি। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা বালি খাদানের কার্যালয় সহ বালিবোঝাই লরিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। ভাঙচুর হয় পুলিশের গাড়িও। এমনকি পুলিশকেও মারধোরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দেহ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
বেলার দিকে বিশাল পুলিশবাহিনী ওই গ্রামে পৌঁছায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে মৃতদের নাম, সন্ধ্যা বাউরি (৩০), রিঙ্কু বাউরি (১৪) ও রাহুল বাউরি (১২)। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে গ্রামবাসীরা উদ্ধার করে জামালপুর ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করায়। শুক্রবার সকালেও এলাকা থমথমে। এলকায় রয়েছে পুলিশ পিকেট।



Post a Comment
Thank You for your important feedback