ফুলবাগানকাণ্ডে নতুন মোড়, বন্দুক রহস্যের পর্দাফাঁস




ফুলবাগানের রামকৃষ্ণ সমাধি রোডে খুন ও আত্মহত্যার ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ধন্ধে পড়েছিল ব্যবহৃত বন্দুকটি নিয়ে। স্ত্রী ও শাশুড়িকে খুন করে নিজেও আত্মঘাতী হয়েছিলেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট অমিত আগরওয়াল। কলকাতার ফুলবাগানের অভিজাত আবাসনে শাশুড়িকে গুলি করে মারেন তিনি, পরে নিজেও সেই রিভালভার থেকে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হন। সেই রিভালভার কোথা থেকে জোগার করেছিলেন অমিত, সেই প্রশ্নেই হোঁচট খেতে হচ্ছিল তদন্তকারীদের। অবশেষে সেই রহস্যের পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশের তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, অমিত লকডাউনের আগেই এই রিভালভার জোগাড় করে মানিকতলায় শ্বশুরের কেনা একটি ফ্ল্যাটে লুকিয়ে রেখেছিলেন। তবে কোথা থেকে সেই রিভালভারটি তিনি পেয়েছিলেন সেটা এখনও জানতে পারেনি তদন্তকারীরা। পুলিশের অনুমান, সুপারি কিলারের খোঁজে লকডাউনের আগেই বিহার ও তামিলনাড়ুতে গিয়েছিলেন অমিত। তখনই হয়তো রিভলভারটি কিনেছিলেন তিনি।


গত সোমবার হত্যাকাণ্ডের দিন বেঙ্গালুরুতে স্ত্রীকে খুন করে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বিমানে সোজা কলকাতা আসেন অমিত। এক অ্যাপ ক্যাব চালকের বয়ান ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে মানিকতলায় বেঙ্গল কেমিকালের সামনে নামেন অমিত। সেখানে শ্বশুরের কেনা একটি ফ্ল্যাটে যান তিনি। ওই ফ্ল্যাটের চাবি তাঁর কাছেই থাকতো বলে জেনেছে পুলিশ। সেখানেই মাস তিনেক আগে খুন ও আত্মহত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি কিনে লুকিয়ে রেখেছিলেন অমিত আগরওয়াল। পুলিশ মানিকতলার ফ্ল্যাটের অন্যান্য বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছেন, মাস তিনেক আগে শেষবার ওই ফ্ল্যাটে এসেছিলেন অমিত। তবে বেশিদিন থাকেননি। পুলিশ সূত্রে খবর, অমিতের শ্বশুর জামাইয়ের বিরুদ্ধে ফুলবাগান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ফলে এই মামলায় চার্জশিট দিতে হবে পুলিশকে। যদিও মূল অভিযুক্তের মৃত্যু হওয়ায় মামলার কোনও শুনানি না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post