
আবারও এক অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন কলকাতাবাসী। রবিবার মধ্যরাত থেকে বাড়িতেই পড়ে রইল এক করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের দেহ। বাড়িতে করোনা আরও তিনজন করোনার জেরে হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। ফলে তাঁরাও বাড়ি থেকে বের হতে পারছিলেন না। অপরদিকে বাড়িতেই দীর্ঘক্ষণ করোনা রোগীর দেহ পড়ে থাকায় উদ্বেগে ছিলেন প্রতিবেশীরাও। অভিযোগ, স্থানীয় কাউন্সিলর ও স্বাস্থ্যভবনে বারবার যোগাযোগ করেও কোনও সাড়া পায়নি ওই পরিবার। ঘটনাটি বেহালার সাহাপুরের। সিএন খবর প্রথম এই খবর সম্প্রচার করে। সিএন নিউজ চ্যানেল সোমবার সকাল থেকেই বারবার এই খবরটি দেখানোর পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অবশেষে প্রায় ১৪ ঘন্টা পর ওই বাড়িতে যায় স্থানীয় থানার পুলিশ। তাঁরাই দেহ সৎকারের প্রয়োজনীয় আশ্বাস দেয় মৃতের পরিবারকে।

ওই পরিবারের দাবি, রবিবার রাত থেকেই তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় করোনা পজিটিভ ওই বৃদ্ধের। তাঁদের আরও দাবি, স্বাস্থ্য দফতরই তাঁদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু বৃদ্ধের অবস্থার অবনতি হতে শুরু করতেই তাঁরা ফের যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন স্থানীয় কাউন্সিলর ও স্বাস্থ্য দফতরে। কিন্তু কেউই এগিয়ে আসেননি সাহায্য করতে। অভিযোগ, রবিবার মাঝরাতেই মারা যান ওই বৃদ্ধ। এরপরও হয়রানীর শেষ হয়নি। করোনায় আক্রান্ত ওই বৃদ্ধের দেহ সৎকারের জন্য এগিয়ে এলেন না কেউ। সোমবার বেলা পর্যন্ত কাওকে না পেয়েই পরিবারের এক সদস্য কোয়ারেন্টাইনের মধ্যেই বাড়ির বাইরে আসেন। তিনিই দেহ সৎকারের চেষ্টা করেন। অভিযোগ, তবুও ১১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এগিয়ে আসেননি। পরে অবশ্য খবরটি সিএন নিউজে প্রচারিত হয়। এরপর প্রশাসনের তরফে তৎপরতা শুরু হয়। সোমবার দুপুরে অবশেষে অ্যাম্বুলেন নিয়ে এসে দেহ নিয়ে যায় পুরসভা। এই অমানবিক ঘটনার নিন্দা করেছে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি। প্রসঙ্গত, রবিবারই উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ হাসপাতালে করোনা সন্দেহে এক বৃদ্ধকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে যাওয়ার লোক না মেলায় হাসপাতালের গেটেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরপর এই ধরণের ঘটনা বারবার ঘটায় করোনা আক্রান্তদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

সিএন-এ এই খবর সম্প্রচারিত হওয়ার পর সেখানে পৌঁছয় পুলিস। কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রতিদিনই শহরের বুকে কোথাও না কোথাও পড়ে থাকছে করোনা আক্রান্তের দেহ। কীভাবে প্রিয়জনের দেহের সত্কার হবে ভেবেই দিশেহারা পরিবার। একে স্বজন হারানোর শোক, তার ওপর ঘরের মধ্যে চোখের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রিয়জনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে সংকটজনক মানসিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে মানুষজনকে! শুধু প্রশাসনের ‘ব্যর্থতা’ বললে কি এর ব্যখ্যা সম্ভব? প্রশাসনিক শৃঙ্খল ঠিক কতখানি ভঙ্গুর হয়ে পড়লে এই পরিণতি হয়? বৃদ্ধের মৃত্যুর পর দীর্ঘক্ষণ বাড়িতে পড়ে থাকে দেহ। অভিযোগ এলাকার কাউন্সিলর থেকে প্রশাসন, সহযোগিতা মেলেনি কারোরই।
Post a Comment
Thank You for your important feedback