স্বামীকে খুন করে প্রেমিকের ঘরে খাটের নীচে পুঁতে দিল স্ত্রী

ফের মনুয়া কাণ্ডের ছায়া বারাসতের কাছেই গাইঘাটায়। এবারও প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পুলিশ স্ত্রীকে জেরা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে, পরে ধরা হয় প্রেমিককেও। অভিযোগ, স্বামীকে খুন করে প্রেমিকের ঘরের ভিতর খাটের তলায় পুঁতে দেয় দেহ। পুলিশই মাটি খুঁড়ে দেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পরই ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গাইঘাটার গোয়ালবাথান এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে নিহত স্বামীর নাম রামকৃষ্ণ সরকার। আর অভিযুক্ত স্ত্রীর নাম স্বপ্না সরকার এবং তাঁর প্রেমিকের নাম সুজিত দাস। রামকৃষ্ণের আদি বাড়ি কোচবিহারের বাণেশ্বর এলাকায়। কিন্তু বিয়ের পর স্ত্রী স্বপ্নাকে নিয়ে বনগাঁর বাবুপাড়ায় ভাড়া থাকতেন। আর সুজিতের বাড়ি গাইঘাটার গোয়ালবাথান এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে গোয়ালবাথানের এক পুকুরে রক্ত দেখতে পান গ্রামবাসীরা।


 এরপর খোঁজাখুঁজির পর আশেপাশের বাঁশবাগান থেকে এক জোড়া জুতো, মাস্ক, টর্চ উদ্ধার হয়। রাতে খোঁজার পর্বে ইতি পড়লেও বুধবার সকালেই অভিযুক্ত সুজিত দাসের ঘরের সামনে শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ দেখতে পান এলাকাবাসী। খবর যায় গাইঘাটা থানায়। পুলিশ এসে খোঁজখবর শুরু করতেই জানা যায় সুজিত এলাকায় নেই। তাঁর ঘরের দরজা ভেঙে ঘরের ভিতর তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। সেখানেই তাঁরা দেখতে পায় খাটের নিচে মাটি খোঁড়া হয়েছে। শুরু হয় মাটি খোঁড়ার কাজ। বুধবার দুপুরে ওই জায়গার মাটি খুঁড়ে এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ জানতে পারে ওই দেহটি রামকৃষ্ণের। তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে জেরা করতেই আসল তথ্য বেরিয়ে পড়ে। জানা যায় প্রেমিক সুজিতের সঙ্গে স্বামীকে খুন করেই সুজিতের ঘরে পুঁতে দেয় সে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, রামকৃষ্ণের স্ত্রী স্বপ্না সরকারের সঙ্গে অনেকদিন ধরেই সুজিতের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। ফলে পথের কাটা হয়ে দাঁড়ানো স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে স্বপ্না, সঙ্গী হয় সুজিতও। আপাতত দুজনেই পুলিশের হেফাজতে। তাঁদের জেরা করে রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করছে গাইঘাটা থানার পুলিশ।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post