‘রাজনীতির মঞ্চে দেখা হবে’ নন্দীগ্রাম থেকে হুঙ্কার শুভেন্দুর

‘আমি ক্ষমতা নিয়ে কোনও দিন রাজনীতি করিনি। শুভেন্দু অধিকারী ভয় পায় না। লড়াইয়ের ময়দানে দেখা হবে। রাজনীতির মঞ্চে দেখা হবে’। মঙ্গলবার দলীয় প্রতীক ও পতাকা ছাড়া নন্দীগ্রাম দিবসের অনুষ্ঠানে হুঙ্কার শুভেন্দু অধিকারীর। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে নন্দীগ্রামের তেখালিতে শুভেন্দুর এই সভা নিয়ে কৌতূহলের অন্ত ছিল না রাজনীতির কারবারিদের। তবে এদিনের ভাষণে শুভেন্দু সরাসরি কাউকে আক্রমণ করেননি। তবুও তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে আগামীর বিস্ফোরণের। পাশাপাশি তেখালির সভায় কয়েক হাজার মানুষের সমাগম বুঝিয়ে দিল আগামীর বার্তা। 


তিন সভা ঘিরে ক্রমশ উত্তাপ বেড়েই চলেছে নন্দীগ্রামে। এদিন সকালেই ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে নন্দীগ্রামের তেখালিতে বিশাল শহিদ স্মরণ সভা করলেন রাজ্য তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক তথা পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যিনি বিগত কয়েকদিন ধরেই দলীয় পতাকাকে দূরে সরিয়ে রেখেই জনসভা ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। 

 

এদিনও করলেন। তাঁর সভায় কত লোক হয় আর কে কে আসেন সেটা নিয়েও ছিল কৌতূহল। এদিন সভা শুরু হতেই দেখা গেল পাঁশকুড়ার তৃণমূল বিধায়ক ফিরোজা বিবিকে শুভেন্দুর মঞ্চে। তাঁর ছেলে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম শহিদ। ছিলেন কাঁথি-উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক বনশ্রী মাইতি। এছাড়া শুভেন্দুর ভাই তথা তৃণমূল সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীও আগাগোড়া ছিলেন তেখালির শহিদ স্মরণ সভায়। 

 
এদিন নিজের ভাষণে আগাগোড়াই ছিল রাজনীতির ছোঁয়া। কিন্তু সরাসরি কারোর নাম উল্লেখ করেননি শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘আমি জানি সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অপেক্ষা করে আছেন। তাঁরা আমার মুখ থেকে কিছু শুনতে চান। আমি বলব। সব বলব। রাজনীতিতে সেই পথেই এবার হাঁটব যেখান দিয়ে গেলে আমাকে আর হোঁচট খেতে হবে না। তবে আজ আমি রাজনৈতিক মঞ্চে আসিনি। নন্দীগ্রামের এই পবিত্র মঞ্চ রাজনীতির জায়গা নয়। এখান থেকে আমি কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেব না। রাজনীতির কথা সময়মতো বলব। আর সেটা বলব রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে’। 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এদিন তেখালির সভা থেকে বেশ বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু। তবে স্পষ্ট করে কিছু না বলে জল্পনা আরও জিইয়ে রাখলেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম কাণ্ডারী।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post