মঙ্গলবার বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। সারা দেশের নজর সেদিকে। তবুও নন্দীগ্রাম দিবস নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। দলীয় পতাকা ছাড়াই এবার আলাদা করে নন্দীগ্রাম দিবস পালন করলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই দিনে আরও দুটি শহিদ স্মরণ সভা করে তৃণমূল। এরমধ্যে বিকেলে নন্দীগ্রামের এক সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, আরেক মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু ও রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। ফলে রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর তরজায় এদিন টানটান উত্তেজনা দেখল রাজ্যবাসী।
সকালেই এক অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সরাসরি কারও নাম না নিয়ে তৃণমূলের প্রথম সারির নেতৃত্বকে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ’১৩ বছরে নন্দীগ্রামের কথ মনে পড়েনি। আজ পরব বলে মনে পড়েছে। ভোটের আগে আসছেন। ভোটের পরেও তো আসতে হবে’। বিকেলের সভায় এরই পাল্টা দিলেন শুভেন্দুর মন্ত্রীসভায় সহকর্মী ফিরহাদ। তিনি কারও নাম না নিয়েই বললেন, ‘কে বলল আসিনি! ১৩ বছরে অনেকবার নন্দীগ্রামে এসেছি। আমি এসেছি। পার্থদা, বক্সিদা, পূর্ণেন্দুদা, দোলাদি অনেকবার নন্দীগ্রামে এসে এখানকার আন্দোলনকে সমর্থন জুগিয়েছি। এই নন্দীগ্রাম থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান। নন্দীগ্রাম ছিল বলেই সিপিএমের মতো জগদ্দল পাথরকে সরাতে পেরেছি’।
এরপরই সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রাম আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতে পারে! যারা ভাবছে পালে হাওয়া দিয়ে এই রাজ্যে বিজেপিকে শক্ত ভিতে দাঁড় করাবে তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে’। শুভেন্দুর নাম উল্লেখ করে সাংসদ দোলা সেনও তীব্র আক্রমণ শানান এদিন। তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রামে প্রতি বছর ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি যে সভা করে সেখানে মমতার ছবি থাকে, এবার তা হয়নি। তাই তৃণমূলকে আলাদা করে সভা করতে হচ্ছে। কারণ নন্দীগ্রামে মমতার লড়াইকে কোনওভাবে অস্বীকার করা যায় না’। সবমিলিয়ে তৃণমূলের ভাঙন স্পষ্ট। বিরোধীদের কটাক্ষ, নন্দীগ্রাম থেকেই উত্থান তবে কি নন্দীগ্রাম থেকেই শেষের শুরু? উত্তর মিলবে আগামীদিনে।



Post a Comment
Thank You for your important feedback