কোচবিহারের বিধায়ককে তৃণমূল ছাড়ার পরামর্শ

অন্তরালে থাকা কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামীর মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরামর্শ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা কোচবিহার জেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল আহমেদ। গতকাল বিধায়ক তার নিজের ফেসবুক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পোস্ট করে লিখেছেন "দিদির দলে যোগ দিয়েছিলাম সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াইতে কংগ্রেস দাদাদের চাইতে দিদিকে বেশি রাস্তার মানুষ মনে হয়েছিল। অবাক হয়ে দেখলাম লড়াই জিতে ক্ষমতা দখলের পর দিদি সেই সিপিএমের আস্থা রাখছেন বেশি" এছাড়াও তিনি বেশ লম্বা-চওড়া ভাবে বিশ্লেষণ করে মুখ্যমন্ত্রীর উপর আক্রমণ করেছেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে। 

 

শুক্রবারের পর ফের শনিবার তিনি একটি ফেসবুক পোস্ট করেছেন সেখানেও তিনি উত্তরবঙ্গে নেতৃত্ব দক্ষিণবঙ্গ কলকাতার নেতাদের জন্য বঞ্চনা ও অবহেলার তালিকায় রয়েছেন সেই বিষয় তুলে ধরেন। এইভাবে এই বিধায়কের প্রতিদিন একের পরে এক দলের বিরুদ্ধে ফেসবুক পোস্ট তৃণমূল কংগ্রেসকে অনেকটাই অস্বস্তিতে ফেলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর এই  ফেসবুক পোস্ট নিয়ে কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় সেভাবে কিছু বলতে না চাইলেও দলের জেলার সাধারণ সম্পাদক বর্ষীয়ান নেতা আব্দুল জলিল আহমেদ বলেন বলেন, যাঁর জন্য তিনি আজ বিধায়ক তাঁর বিরুদ্ধে যখন তিনি কথা বলছেন তখন তাঁকে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া দরকার বলে মনে করি। তবে তিনি বিজেপিতে গেলে তাদের দলের কোন ক্ষতি হবে না ।


উল্লেখ্য, কোচবিহারে দলের জেলা কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামী দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন পরকাশ্যেই। দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন । এরপরই পূজা শেষ হতেই তার বাড়িতে যান বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক । শুরু হয়ে যায় তার বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা। তারপর হঠাৎ তাঁকে খুঁজতে রাজ্যের দুই মন্ত্রী তার কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে বাড়িতে ছুটে গেলেও তাকে খুঁজে পাননি।। তবে সেইদিন থেকেই বিধায়ককে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে রীতিমতো তার ফেসবুক থেকে প্রতিদিন দলের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো ফেসবুক পোস্ট হচ্ছে। আর এতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়ছে মিহিরবাবু বর্তমানে কোথায় রয়েছেন এ বিষয়ে কেউ কোনও কিছু জানে না।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post