তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক, তিনি কি তৃণমূল ছাড়ছেন, এই জল্পনাই চলছিল জেলা ও রাজ্য রাজনীতির অন্দরে। বেশ কিছুদিন আড়ালে থাকার পর অবশেষে এলেন প্রকাশ্যে। দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনও করলেন, আর জিইয়ে রাখলেন অন্য দলে যাওয়ার জল্পনাও। তবে তৃণমূল কংগ্রেসে যে ফিরছেন না সে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন তিনি। তিনি মিহির গোস্বামী, কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক। গত ৯দিন ধরে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তাঁকে ফোনেও পাওয়া যাচ্ছিল না।
তবে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীকেও আক্রমণ চালিয়ে গিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে জেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল আহমেদ তাঁকে দল ও বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফার পরামর্শও দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছিলেন, দলে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলতে হলে পরদত্যাগ করুক মিহিরবাবু। এরপরই সোমবার সকালে কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কার্যালয়ে হাজির হন মিহির গোস্বামী। দলীয় কার্যালয়েই এক সাংবাদিক সম্মেলনেই তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘বেড়ালের গলায় ঘণ্টা কে বাঁধবে, এটা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে দ্বিধা ছিল, তিনি সেটা বেঁধে দিলেন’।
তিনি আরও বলেন, ‘বাড়ির বাইরে থাকার কারণে অনেকেই অনেক রকম কথা বলেছেন। এমনকি দিল্লি যাওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বিভিন্নভাবে। তবে আমি আজ থেকে এই কার্যালয়ে রোজ বসবো’। কিন্তু তৃণমূলেই থাকবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে মিহিরবাবু বলেন, ‘দলের মধ্যে আমার প্রাসঙ্গিকতা নেই, তাই তৃণমূলে ফিরছিও না, ভাবছিও না’। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর পিছনে একটি ব্যানার লাগানো ছিল, সেটিও যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ। সেটাতে ছিলনা তৃণমূলের প্রতীক ও পতাকা। ওই ব্যানারে মিহির গোস্বামীর ছবির পাশে লেখা ছিল ‘শুনহ মানুষ ভাই, সবার ওপরে মানুষ সত্য। তাহার উপরে নাই’।
উল্লেখ্য, এর আগেই মিহির গোস্বামী কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কমিটি গঠন হওয়ার পর দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দলের সমস্ত পথ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। দুর্গাপুজোর পরই তিনি কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিকের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই বেসুরো গাইছিলেন তিনি। এবার প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মিহির গোস্বামী।



Post a Comment
Thank You for your important feedback